মঙ্গলবার । ২৩শে জুন, ২০২৬ । ৯ই আষাঢ়, ১৪৩৩

৩৬ মাস ভাড়া না দেওয়ার শর্তে ক্রিসেন্ট জুট মিল বেসরকারি মালিকানায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভূমি ও স্থাপনার মালিকানা থাকলেও ক্রিসেন্ট জুট মিল এখন আর সরকারি অবয়বে থাকছে না। আগস্ট নাগাদ লিজ গ্রহীতা মাহাবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে হস্তান্তর হচ্ছে। ত্রিশ বছর মেয়াদে বেসরকারি মালিকানায় ছাড়ে ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গেল বছর করা ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল লিজ গ্রহীতা হস্তান্তরের পরবর্তী ছত্রিশ মাস পর্যন্ত বিজেএমসিকে ভাড়া দেবে না। সরকার এতে দ্বিমত পোষণ করেনি।

২০২০ সালের পহেলা জুলাই বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ শিল্প শহর খালিশপুরে এশিয়ার বৃহত্তম পাটকল ক্রিসেন্ট জুট মিল লিমিটেড-এর উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে। ২০২৪ ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে সকল দলই মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট আদায় করে। স্পর্শকাতর বিষয়টির দিকে তাকিয়ে খালিশপুরবাসী নির্বিঘ্নে ভোট দেয়। কিন্তু তার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ সালের ১৬ জুন নানা শর্তের ভিত্তিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মাহবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে লিজ দেয়। সরকারের পক্ষে পাট মন্ত্রণালয়, বিজেএমসি এবং লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

এতে উল্লেখ করা হয়, প্রতি মাসে লিজ গ্রহীতা ৫০ লাখ টাকা মাসিক ভাড়া দিতে বাধ্য থাকবে। এই আলোকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারি কোষাগারে ১৮ কোটি টাকা জামানত হিসেবে জমা দিয়েছে। শর্তের অন্যতম দিক হচ্ছে হস্তান্তরের পর লিজ গ্রহীতা বিজেএমসিকে ৩৬ মাস ভাড়া দেবে না। চুক্তির সময় অন্যান্যের মধ্যে বিজেএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ কবির উদ্দিন শিকদার ও লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বেসরকারি মালিকানায় দেওয়ার প্রাক্কালে পাকিস্তান জামানায় প্রতিষ্ঠিত এ মিলের অব্যবহৃত তাঁত ও ব্যবহার অযোগ্য লোহার সরঞ্জাম ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে ২৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়। এর পরপরই বিজেএমসি খুলনার রূপালী ব্যাংকের সামস ভবন শাখার মিলের নেওয়া মুলধন পরিশোধ করে দেয়। মিলের কাছে এ পর্যন্ত সুদ বাবদ ৩২৫ কোটি ৩ লাখ টাকা মওকুফ করে দেওয়ার জন্য গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠায়।

ক্রিসেন্ট জুটের মহাব্যবস্থাপক খান মোঃ কামরুল ইসলাম লিজের শর্তানুযায়ী সরকার ৩৬ মাসের ভাড়া ছাড় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। উৎপাদনহীন ও লোকসানে থাকা মিলের অস্তিত্ব বজায় রাখতে এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেসরকারি মালিকানায় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিজ গ্রহীতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তরের পর প্রতিবছর এখানে ১৫ হাজার জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ৬ বছর আগে উৎপাদনে থাকাকালীন সময় ৬ হাজার জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ ছিল।’

মিলের রেকর্ড অনুযায়ী, ভৈরব নদের তীরে শিল্প শহর খালিশপুরে ১১৩ একর জমির উপর এ মিল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৫৪ সালের ১ অক্টোবর এ মিলের উৎপাদন শুরু হয়। ইস্ট পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন মিলটি স্থাপন করেন। এর একটি বড় অংশের অংশীদার শিল্পপতি আগাখান গ্রুপ। পাকিস্তান জামানায় ২২ শিল্প পরিবারের মধ্যে এ গ্রুপ অন্যতম। ৭৪ বছর পর মিলের মালিকানা বেসরকারি খাতে যাচ্ছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন